শহীদ ওসমানের রক্তের ঋণ শোধে ইনসাফ রাষ্ট্র গড়ার আহ্বান
প্রকাশিত: 26 Dec, 2025
শহীদ ওসমানের রক্তের ঋণ শোধ করতে বাংলাদেশকে ইনসাফের রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও তার ভাই ওমর বিন হাদি। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন।
ওমর বলেন, আধিপত্যবাদমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করাই হবে তার ভাইয়ের রক্তের প্রকৃত মূল্যায়ন। তিনি উল্লেখ করেন, এক শহীদের রক্তের মাধ্যমে যে স্বপ্ন বোনা হয়েছিল, সেটি রাষ্ট্রীয় বাস্তবতায় রূপ দিতে হবে।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি নিজের মায়ের উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে বলেন, সম্মেলনে উপস্থিত হওয়ার আগে মা তাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছিলেন এবং তার নিরাপত্তার জন্য উদ্বিগ্ন ছিলেন। ওমর জানান, ভাইয়ের বিচারের দাবিতে অগ্রসর হলে তাকেও হত্যা করা হতে পারে বলে তার মা আশঙ্কা করছেন।
২০১২ সালের পর দুই ভাই একসাথে আন্দোলনে থাকত। তারা জুন ও জুলাই আন্দোলনের সময় পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে রাজপথে ছিলেন। ৫ আগস্টের পর তারা 'ইনকিলাব মঞ্চ' প্রতিষ্ঠায় ঝাঁপিয়ে পড়েন।
ওমর তার ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পিত চরিত্র উল্লেখ করে বলেন, খুনিরা ঘটনার দুই সপ্তাহ আগে থেকেই তাদের নজরদারি করছিল এবং এক শুক্রবারের নামাজ শেষে ফেরার পথে ওসমান গুলিবিদ্ধ হন। পরের শুক্রবার রাতেই সিঙ্গাপুরে তিনি শহীদ হন।
তিনি বলেন, যে দেশে হত্যার পর ছেলেরা পালিয়ে যায় এবং আল্লামা সাঈদীকে ভারতীয় কারাগারে রাখা হয়, সেখানে স্বাধীনতার অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
সম্মেলনে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ওমর আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা যেন ওসমানের চিন্তা ও আদর্শ ৫৬ হাজার বর্গমাইলের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দেয়।
তিনি মনে করিয়ে দেন, ১৬ বছর ধরে মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং জনগণই দেশের মালিক। নির্বাচনের অজুহাতে কেউ মানুষের কণ্ঠরোধ করতে পারে না।
আঁতাত ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সতর্ক করে তিনি বলেন, যদি কেউ এ দেশে পুনরায় ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে, তবে তাদের আল্লাহর কাছে অবগত থাকতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ওসমানের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশকে আধিপত্যবাদমুক্ত করে ইনসাফ কায়েম করতে হবে।
এই সম্মেলনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।