ইরানে ট্রাম্পের ভূমিকা দেখতে চান রেজা পাহলভি
প্রকাশিত: 10 Jan, 2026
ইরানের সাবেক সম্রাটের নির্বাসিত উত্তরসূরি রেজা পাহলভি দেশটির চলমান বিক্ষোভ ঘিরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে আন্দোলনরত জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। এ তথ্য জানিয়েছে গালফ নিউজ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঞ্চলে অবস্থানরত রেজা পাহলভি লেখেন, এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মনোযোগ, সমর্থন এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের জন্য জরুরি আবেদন। তিনি ইরানের জনগণকে সহায়তায় এগিয়ে আসতে ট্রাম্পের প্রস্তুতি কামনা করেন।
তবে কী ধরনের হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। পোস্টে পাহলভি উল্লেখ করেন, তিনি জনগণকে স্বাধীনতার দাবিতে রাজপথে নামতে এবং সংখ্যাগত শক্তির মাধ্যমে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর চাপ সৃষ্টি করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগের রাতে বিক্ষোভকারীরা সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কড়া অবস্থান দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ড কিছুটা হলেও সীমিত করেছে। তবে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে পাহলভি বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই মানুষ আবার রাস্তায় নামতে পারে এবং এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক সহায়তা জরুরি।
এর আগে, গত বছর ইসরাইলের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সাম্প্রতিক সময়েও তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনা করতে পারে।
অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, বিক্ষোভের মুখে ইসলামি প্রজাতন্ত্র কোনো অবস্থাতেই পিছপা হবে না। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করেন এবং বলেন, তার হাত ‘রক্তে রঞ্জিত’।
গত ৩ জানুয়ারি থেকে আন্দোলন জোরালো হলেও এটি ছিল চলমান পরিস্থিতি নিয়ে খামেনির প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্য। ভাষণে তিনি দাবি করেন, ট্রাম্পের কারণে এক হাজারের বেশি ইরানির প্রাণ ঝরেছে এবং ইসরাইলের সঙ্গে সংঘর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার দায়ও ওয়াশিংটনের ওপর বর্তায়।
খামেনি আরও বলেন, ‘অহংকারী’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের পরিণতি ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের আগে ক্ষমতাচ্যুত ইরানি রাজতন্ত্রের মতোই হবে। তিনি অভিযোগ করেন, তেহরানে ভাঙচুরকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে সন্তুষ্ট করতেই নিজেদের স্থাপনা ধ্বংস করেছে। ভাষণ চলাকালে তার সমর্থকরা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেন।
শেষে খামেনি বলেন, অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং নাশকতাকারীদের চাপে কখনোই রাষ্ট্র পিছু হটবে না।