আন্তর্জাতিক

হামাসের নতুন নেতা বাছাই চূড়ান্ত পর্যায়ে

প্রকাশিত: 23 Feb, 2026

ফন্ট সাইজ:
বাপ্পি
বাপ্পি

জেলা প্রতিনিধি

হামাসের নতুন নেতা বাছাই চূড়ান্ত পর্যায়ে

ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাস নতুন নেতা বেছে নেওয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সংগঠনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দলের দুই জনপ্রিয় নেতা খালেদ মেশাল ও খলিল আল-হাইয়ার মধ্যে নেতৃত্বের পদটি নিয়ে প্রতিযোগিতা চলছে।

কর্মকর্তা বলেন, হামাস তিন অঞ্চলে অভ্যন্তরীণ নির্বাচন শেষ করেছে এবং রাজনৈতিক ব্যুরো প্রধান বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। দলটি ‘সূরা কাউন্সিল’ গঠন করেছে, যা উপদেষ্টা পর্ষদ হিসেবে কাজ করবে। এই কাউন্সিলের সদস্যদের নির্বাচন করেন হামাসের তিন শাখার প্রতিনিধিরা, যার মধ্যে রয়েছে গাজা উপত্যকা, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও দলটির বাহ্যিক নেতৃত্ব।

ইসরায়েলি কারাগারে আটক হামাসকর্মীরাও এই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান। কাউন্সিল নির্বাচিত হওয়ার পর তারা রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্যদের বেছে নেয়, যারা ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করেন। সর্বশেষ এই পদে ছিলেন প্রয়াত নেতা ইসমাইল হানিয়া, যিনি ২০২৪ সালের জুলাই মাসে তেহরানে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন।

হামাসের এক সূত্র জানান, নতুন নেতা অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বে থাকবেন এবং তার মেয়াদ হবে মাত্র এক বছর। এই প্রক্রিয়ার প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল দলের অভ্যন্তরীণ কাঠামোকে পুনরুজ্জীবিত করা ও নেতৃত্বশূন্যতা পরিপূরণ করা। গত আড়াই বছরে ইসরায়েলের সরাসরি ও গুপ্ত হামলায় হামাসের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের বেশিরভাগই নিহত হয়েছেন, যার ফলে সংগঠনে নেতৃত্ব সংকট দেখা দিয়েছে।

খলিল আল-হাইয়া গাজার বাসিন্দা এবং ২০০৬ সাল থেকে হামাসের বিভিন্ন জ্যেষ্ঠ পদে আছেন। তিনি যুদ্ধবিরতি আলোচনায় হামাসের প্রতিনিধিদলের নেতার ভূমিকা পালন করছেন। অন্যদিকে, খালেদ মেশাল ২০০৪ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত রাজনৈতিক ব্যুরোর নেতার দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে হামাসের প্রবাসী কার্যালয়ের প্রধান হিসেবে দায়িত্বে আছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, হামাসের নতুন নেতা এক উভয়সংকটে পড়তে পারেন। একদিকে ইসরায়েল ও আন্তর্জাতিক মহলের কাছ থেকে আসা ‘নিরস্ত্রীকরণের’ চাপ এবং অপরদিকে দলটির সশস্ত্র অংশের বিরোধিতা মোকাবিলা করতে হবে তাকে। হামাস জানিয়েছে, তারা সুনির্দিষ্ট শর্তে গাজায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে অস্ত্রসমর্পণ করতে রাজি আছে।

গত মাসে হামাসের এক সূত্র জানান, হাইয়ার প্রতি সংগঠনটির সশস্ত্র অংশ, এজেলদিন আল-কাশেম ব্রিগেডের সমর্থন আছে। ইয়াহিয়া সিনওয়ার, যাকে হামাস হানিয়ার মৃত্যুর পর নেতা নিয়োগ দিয়েছিল, গাজার রাফায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন। এরপর থেকে ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তু হবেন এমন আশঙ্কায় নতুন নেতা বাছাই করা থেকে বিরত থাকে হামাস এবং কাতারভিত্তিক অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব কমিটি গঠন করে।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন: