যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের কৌশল ও প্রস্তুতি
প্রকাশিত: 26 Feb, 2026
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন কিছু নয়, তবে বর্তমানে তা একটি শীর্ষ অবস্থানে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলমান পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রশাসন ইরানে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে।
ইরান এখন সম্ভাব্য মার্কিন হামলা মোকাবিলায় যুদ্ধ প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা মোকাবিলার জন্য কৌশল নির্ধারণ করছে। এ লক্ষ্যে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সরকার নতুন নেতৃত্ব, সামরিক ও প্রশাসনিক কাঠামোতে পরিবর্তন এনেছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের (আইএসডব্লিউ) মতে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারকে শক্তি প্রদর্শনের প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন।
ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে বড় আকারের হামলার পরিকল্পনা করতে পারে। যদিও ইসরায়েল ইতোমধ্যে অনেক লঞ্চার ধ্বংস করেছে, তবুও ইরানের হাতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লঞ্চার রয়েছে।
ইরান সমর্থিত আধাসামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে আছে এবং তারা ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন স্বার্থে আঘাত হানতে সক্ষম। এছাড়াও, হরমুজ প্রণালী ইরানের জন্য একটি কৌশলগত শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।
আইএসডব্লিউর মতে, খামেনির ঝুঁকি নেওয়ার প্রস্তুতি সফলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সীমিত হামলার ফলে পাল্টা আঘাত কম হবে, কিন্তু বড় হামলা ঝুঁকিকে বাড়াবে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সক্ষমতা কিছুটা কমেছে বলেও উল্লেখ করেছে তারা।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সব সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের হামলা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইরাক সীমান্তের পশ্চিমাঞ্চল ও পারস্য উপসাগরীয় দক্ষিণ উপকূলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে।
এছাড়া, ইরান মহড়া চালানোর মাধ্যমে ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বয় বাড়াচ্ছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী জনবহুল এলাকায় অবস্থান নিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান বেসামরিক স্থানকে সামরিকীকরণ করছে।
ইরান গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোকে সুরক্ষিত রাখতে ব্যবস্থা নিয়েছে। গত বছর ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধের পর খামেনি অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়েছেন।
নতুন নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন আলি লারিজানি, যিনি ইরানের অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ এবং জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান। লারিজানি যুদ্ধের সময় রাষ্ট্র পরিচালনার পরিকল্পনা তৈরি করছেন।
ইরানে সামরিক ও প্রশাসনিক কাঠামো নতুন করে সাজানো হয়েছে, যেখানে চার স্তরের উত্তরাধিকার কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। খামেনি যুদ্ধ ও উত্তরাধিকার উভয়ের জন্য রাষ্ট্রকে প্রস্তুত করছেন।
ইরানের শহরগুলোতে বিশেষ পুলিশ ইউনিট ও গোয়েন্দা সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধের ফল অনিশ্চিত জানালেও, পুরো ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করছেন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পরমাণু ইস্যুতে বিরোধ চলমান থাকলেও, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের ভূমিকা সংঘাতের গতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।