জাতীয়

সন্তান পালনের ধারা পরিবর্তন, ভারসাম্য আনতে ভিন্ন পথে হাঁটছেন অভিভাবকরা

প্রকাশিত: 02 Mar, 2026

ফন্ট সাইজ:
বাপ্পি
বাপ্পি

জেলা প্রতিনিধি

সন্তান পালনের ধারা পরিবর্তন, ভারসাম্য আনতে ভিন্ন পথে হাঁটছেন অভিভাবকরা

প্রযুক্তির এই যুগে সবাই এখন স্ক্রিন নিয়েই ব্যস্ত। এমনকি প্রায় সময় রেস্তোরাঁয় দেখা যায় পুরো পরিবার একসঙ্গে খে আসলেও তারা নিজেদের মতো ব্যস্ত মা-বাবা নিজেদের ফোনে ব্যস্ত, আর শিশু   চুপচাপ ট্যাবলেটের পর্দায় ডুবে। তবে সময়ের সঙ্গে এই দৃশ্য পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। এখন অনেক অভিভাবক সেই অভ্যাস বদলাতে চাইছেন। তারা চাইছেন সন্তানের শৈশব হোক পর্দার আলো নয়, বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোয় ভরা।

জনপ্রিয় অনলাইন ছবি ও ধারণা খোঁজার মাধ্যম পিন্টারেস্টের সাম্প্রতিক প্যারেন্টিং বিষয়ক প্রতিবেদনে এমন প্রবণতার কথাই উঠে এসেছে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পরিবারগুলো এখন সৃজনশীলতা, সচেতনতা এবং অর্থবহ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে শৈশব গড়ে তুলতে আগ্রহী।  

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পর্দা ছাড়া কীভাবে শিশুদের সময় কাটানো যায় এ ধরনের খোঁজ বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। পারিবারিক ঐতিহ্য গড়ে তোলা, মোবাইলবিহীন ছুটি কাটানো কিংবা প্রযুক্তি থেকে বিরতি নেয়ার মতো বিষয়গুলো এখন অভিভাবকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। শিশুদের শিক্ষামূলক কার্যক্রম নিয়ে খোঁজ বেড়েছে প্রায় ২৮০ শতাংশ। প্রকৃতির মাঝে শেখার ধারণা নিয়েও আগ্রহ বেড়েছে ৬৫ শতাংশ। পরিবেশভিত্তিক শিক্ষা, বন্যপ্রাণী পরিচিতি, দৈনন্দিন রুটিন তালিকা, হাতের কাজ, গণিত চর্চা এসব বিষয়ও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

শুধু বাইরে নয়, ঘরের ভেতরও পরিবর্তন আনতে চান অনেকে। বাড়ির উঠান বা ছাদে ছোটদের জন্য খেলাধুলার জায়গা বানানো কিংবা ঘরেই স্পর্শভিত্তিক সৃজনশীল খেলার আয়োজন এসব বিষয়ে খোঁজ কয়েক গুণ বেড়েছে।

8 Smart Parenting Tips for Raising Happy and Confident Kids

কেন বদলাচ্ছে অভিভাবকদের ভাবনা?

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য চ্যালেঞ্জ, চেষ্টা–ভুল, বাস্তব সমস্যা সমাধান এসব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তি একঘেয়েমি দ্রুত দূর করলেও জীবনের প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরি হয় বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই।

শিশুরা হয়তো ভবিষ্যতে কোনও খেলায় কোন স্তর পর্যন্ত পৌঁছেছিল তা মনে রাখবে না। কিন্তু বৃষ্টির মধ্যে তাবু খাটাতে গিয়ে ব্যর্থ হওয়ার গল্প বা পাহাড়ি পথে হারিয়ে গিয়ে একসঙ্গে পথ খুঁজে পাওয়ার স্মৃতি তারা মনে রাখবে। এমন অভিজ্ঞতাই আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য ও পারিবারিক বন্ধনকে দৃঢ় করে।

আরও পড়ুন: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে খাবারের তালিকা

 

 

প্রযুক্তি বাদ নয়, প্রয়োজন ভারসাম্য

এই পরিবর্তনের অর্থ প্রযুক্তিকে পুরোপুরি বাদ দেয়া নয়। বরং সেটিকে অর্থবহ অভিজ্ঞতায় রূপ দেয়া। যেমন বাড়ির আঙিনায় পরিবারের সবাই মিলে সিনেমা দেখার আয়োজন, বিশেষ সাজসজ্জা, প্রিয় খাবার এসবের মাধ্যমে সাধারণ বিনোদনও হয়ে উঠছে স্মরণীয় পারিবারিক সময়।

অভিভাবকরা এখন শুধু শিশুদের ব্যস্ত রাখতে চান না, বরং সচেতনভাবে এমন মুহূর্ত তৈরি করতে চান, যা তাদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশে সহায়ক হবে।

যেভাবে স্ক্রিনের সঙ্গে ভারসাম্য রেখে প্যারেন্টিং করবেন: বিশেষজ্ঞরা শুরুর দিকে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। প্রথম অবস্থায় যেসব পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে সেগুলো হলো:   

  • বাড়ির উঠানে মুভি নাইট: একটি সাদা চাদর, কয়েকটি বালিশ আর পরিবারের সবার উপস্থিতি ছোট আয়োজনেই তৈরি হতে পারে বড় স্মৃতি।
  • ভ্রমণ ডায়েরি: কোথায় যাবেন, কী লাগবে, কী দেখলেন সব লিখে রাখা। এতে পরিকল্পনা ও সৃজনশীলতা বাড়ে।
  • দৈনন্দিন রুটিন তালিকা: ঘুম থেকে ওঠা, বিছানা গুছানো, দাঁত ব্রাশ অভ্যাস গড়ে তুলতে কার্যকর।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভারসাম্য খুঁজে পাওয়া। প্রযুক্তি থাকবে, কিন্তু তার সঙ্গে থাকতে হবে প্রকৃতি, বাস্তব অভিজ্ঞতা আর পরিবারের একসঙ্গে কাটানো সময়। আর সে কারণেই এখন বাবা-মায়েরা নতুনভাবে প্যারেন্টিং করতে চাইছেন।  

সূত্র: সিএনএন 

 

এই পোস্টটি শেয়ার করুন: