খুলনায় এনসিপি নেতা গুলিবিদ্ধ, বাসা থেকে মাদক ও অনৈতিক কার্যক্রমের আলামত
প্রকাশিত: 22 Dec, 2025
খুলনার সোনাডাঙ্গা আল আকসা মসজিদ রোডের মুক্তা হাউজের নিচ তলায় এনসিপির শ্রমিক সংগঠন জাতীয় নাগরিক শক্তির খুলনা বিভাগীয় আহ্বায়ক মো. মোতালেব শিকদার গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় এই ঘটনা ঘটে এবং স্থানীয় লোকজন তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। বর্তমানে তিনি সার্জারি বিভাগের ৯ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং চিকিৎসকদের মতে তিনি আশঙ্কামুক্ত।
পুলিশ মুক্তা হাউজে অভিযান চালিয়ে বিদেশি মদের খালি পাঁচটি বোতল, একটি পিস্তলের গুলির খোসা, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামাদি এবং অনৈতিক কার্যক্রমের আলামত উদ্ধার করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, আগের দিন রাত সাড়ে ১২টায় দুই ব্যক্তি মোতালেব শিকদারের ভাড়া বাসায় আসে।
তদন্তে জানা গেছে, মোতালেব শিকদার খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর অনুসারী সৌরভ ও তার সহযোগীদের সঙ্গে চাঁদাবাজিতে জড়িত ছিলেন এবং আগে থেকেই তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। চাঁদার অর্থের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে অন্তর্কোন্দল থেকে তাকে গুলিবিদ্ধ করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মোতালেব শিকদার শুরুতে পুলিশের কাছে রাস্তায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে এমন মিথ্যা জবানবন্দি দেন। তার নারী সঙ্গী তন্বীর বাসা ছিল মুক্তা হাউজে এবং গত দুই মাস ধরে তিনি তন্বীর সঙ্গে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার হারুন অর রশিদ জানান, গুলিটি তার বাম কানের চামড়া ভেদ করে বের হয়ে গেছে এবং সিটি স্ক্যান রিপোর্ট স্বাভাবিক এসেছে। মুক্তা হাউজের মালিকের স্ত্রী আশরাফুন্নাহার বলেন, তন্বী নামে এক তরুণী এক মাস আগে নিচতলার ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেয় এবং তার অসামাজিক কার্যকলাপের বিষয়টি জানতে পেরে এ মাসে তাকে বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয়। ঘটনার পর থেকে তন্বী ও অন্যরা লাপাত্তা রয়েছেন।
কেএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তারা অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত ছিল এবং নিজেদের মধ্যে কোন্দলের কারণেই গুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আরও অনেকে জড়িত রয়েছে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।