চাকরি

পাকিস্তানের ভারত বয়কটে আইসিসির আর্থিক ও আইনি সংকট

প্রকাশিত: 05 Feb, 2026

ফন্ট সাইজ:
বাপ্পি
বাপ্পি

জেলা প্রতিনিধি

পাকিস্তানের ভারত বয়কটে আইসিসির আর্থিক ও আইনি সংকট

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। নিরাপত্তা ইস্যুতে বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়া বাংলাদেশকে সমর্থন করতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। পাকিস্তানের এ সিদ্ধান্তে চারদিকে আলোচনার ঝড় উঠেছে।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ থেকেই পুরো আসরের কয়েকগুণ লভ্যাংশ পায় আইসিসি। এই ম্যাচ না হওয়া মানে আইসিসির আর্থিক খাতে বড়সড়ো ধাক্কা। এ সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক ক্রিকেট ব্যবস্থার জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে পাকিস্তানকে সতর্ক করেছে তারা।

আইসিসি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এ ধরনের একতরফা সিদ্ধান্তের আইনি ও চুক্তিগত পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। তবে নিজেদের সিদ্ধান্তে পাকিস্তান অনড় থাকায় সংকটে পড়েছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

আইসিসির সব ইভেন্টে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সদস্য দেশগুলোকে যে মেম্বার্স পার্টিসিপেশন অ্যাগ্রিমেন্টে স্বাক্ষর করতে হয়, সেখানে একটি স্পষ্ট শর্ত রয়েছে। চুক্তির ৫.৭.১ ধারায় বলা হয়েছে, যেকোনো সদস্য দেশ যোগ্যতা অর্জন করলে সংশ্লিষ্ট আইসিসি ইভেন্টে শুধু অংশ নেবে না; বরং নির্ধারিত প্রতিটি ম্যাচ নিঃশর্তভাবে খেলবে।

আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করলে আইসিসি সহজেই দাবি করতে পারে, পিসিবি এ চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করছে। এর ফলে ক্ষতিপূরণ, আর্থিক জরিমানা এমনকি আরো কঠোর সাংগঠনিক শাস্তির পথও খুলে যেতে পারে।

আইসিসির বিরুদ্ধে পিসিবির সম্ভাব্য প্রধান প্রতিরক্ষা হতে পারে ‘ফোর্স মেজর’ অর্থাৎ সরকারের নির্দেশে ম্যাচ খেলতে না পারা। এমপিএর ১২ নম্বর ধারায় সরকারি আদেশকে ফোর্স মেজর হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী এক্ষেত্রে আইসিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত নোটিস দিতে হয় এবং ব্যাখ্যা করতে হয়Ñকীভাবে ওই আদেশ চুক্তিগত দায় পালনে বাধা সৃষ্টি করছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত স্পষ্ট নয়, পিসিবি সে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে কি না।

আইসিসি চাইলে যুক্তি দিতে পারেÑযদি একটি ম্যাচ খেলতে না পারে, তাহলে পুরো টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সক্ষমতাই হারায় একটি দল। সেক্ষেত্রে পিসিবির অংশগ্রহণ বাতিল পর্যন্ত করতে পারে সংস্থাটি।

অন্যদিকে পিসিবির যুক্তি হতে পারেÑএটি আংশিক ফোর্স মেজর, যার শাস্তি সর্বোচ্চ একটি ম্যাচে ফরফিট বা হার হিসেবেই গণ্য হওয়া উচিত। তাই এটি পুরো টুর্নামেন্ট থেকে বহিষ্কারের কারণ হতে পারে না।

বিতর্ক আরো ঘনীভূত হয়েছে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির ভূমিকা নিয়ে। তিনি একদিকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান, অন্যদিকে দেশটির সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী।

আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আইনে যেখানে বোর্ডের স্বায়ত্তশাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে এ দ্বৈত ভূমিকা পিসিবির অবস্থানকে দুর্বল করে দিতে পারে। আইসিসি চাইলে দাবি করতে পারেÑএ ফোর্স মেজর ‘স্ব-সৃষ্ট’ এবং বৈধ প্রতিপক্ষ নয়।

আইসিসি সংবিধান অনুযায়ী, গুরুতর দায়ভঙ্গের ক্ষেত্রে কোনো সদস্য দেশকে সাময়িক বরখাস্ত বা সদস্যপদ বাতিল করার ক্ষমতাও বোর্ডের হাতে রয়েছে। যদিও এটি চরম পদক্ষেপ, তবু বর্তমান পরিস্থিতিতে সে সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে এ সংকট শুধু একটি ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করছে না, এটি বিশ্ব ক্রিকেট রাজনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশও ঠিক করে দিতে পারে।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন: